ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা শান্তি পরিকল্পনাকে ‘নীতিগতভাবে’ মেনে নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। বুধবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই প্রস্তাবটি একটি বৃহৎ ও স্থায়ী চুক্তির জন্য প্রাথমিক আলোচনার কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য একটি ‘কার্যকর ভিত্তি’ (Working Basis) হিসেবে অভিহিত করেছেন। এর আগে ওয়াশিংটন ঘোষণা করেছিল যে, তারা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য ইরানে সব ধরনের সামরিক হামলা স্থগিত রাখবে। এই সময়ের মধ্যে দুই পক্ষ একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।
আইআরআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে—ইরানের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, কৌশলগত হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিকভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকারের স্বীকৃতি। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএ (IAEA)-এর ইরানবিরোধী প্রস্তাব বাতিল, অতীতের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এই অঞ্চল থেকে মার্কিন যুদ্ধ বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। লেবাননসহ সকল রণাঙ্গনে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধের বিষয়টিও এই প্রস্তাবের অন্যতম শর্ত।
ইরানের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিষদ স্পষ্ট করেছে যে, এই আলোচনার অর্থ এই নয় যে এখনই যুদ্ধ চূড়ান্তভাবে শেষ হয়ে গেছে। বরং ইরানের শর্তগুলো পূরণ এবং প্রতিটি বিষয়ের বিস্তারিত চূড়ান্ত হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে একটি সফল ও স্থায়ী চুক্তি। আলোচনা চলাকালীন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌযানের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করা হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তেহরান।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আগামী শুক্রবার থেকে ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক আলোচনা শুরু হতে যাচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনার মেয়াদ দুই সপ্তাহ নির্ধারণ করা হলেও, উভয় পক্ষের সম্মতিতে এই সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। বিশ্বনেতারা ইসলামাবাদের এই আসন্ন বৈঠককে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশকের অস্থিরতা অবসানের শেষ সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
Leave a comment