বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যখন পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে ইরানের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে বিশ্ব রাজনীতির দুই প্রভাবশালী পরাশক্তি রাশিয়া ও চীন। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবে ভেটো প্রয়োগ করে তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দিয়েছে বেইজিং ও মস্কো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদে প্রস্তাবটির পক্ষে ১১টি দেশ ভোট দিলেও স্থায়ী সদস্য হিসেবে রাশিয়া ও চীন তাদের বিশেষ ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করায় প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি। ফলে প্রয়োজনীয় সমর্থন থাকা সত্ত্বেও এটি কার্যকর হয়নি।
প্রস্তাবটির প্রাথমিক খসড়ায় জাতিসংঘ সনদের শক্তিশালী ‘অধ্যায় ৭’ অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল, যার মাধ্যমে প্রয়োজনে সদস্য রাষ্ট্রগুলো সামরিক শক্তি ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার আইনি ভিত্তি পেত। তবে শুরু থেকেই এই ধারা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল রাশিয়া ও চীন। তাদের বিরোধিতার মুখে দীর্ঘ আলোচনার পর প্রস্তাবের ভাষা কিছুটা নমনীয় করা হয় এবং সরাসরি বলপ্রয়োগের পরিবর্তে প্রতিরক্ষামূলক সমন্বয়ের আহ্বান রাখা হয়।
প্রস্তাবটির অন্যতম সমর্থক দেশ বাহরাইন আশা করেছিল, ভাষাগত এই পরিবর্তনের কারণে রাশিয়া ও চীন ভেটো দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে ভেটো প্রয়োগ করে, যা কার্যত ইরানের সার্বভৌমত্বের পক্ষে তাদের অবস্থানকে স্পষ্ট করে তোলে।
নিরাপত্তা পরিষদের এই ভোটাভুটিতে পাকিস্তান ও কলম্বিয়া ভোটদানে বিরত ছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভেটোর মাধ্যমে রাশিয়া ও চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে যে, একতরফা সামরিক পদক্ষেপ বা চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে তারা ইরানের পাশে থাকবে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment