কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার দিবাগত রাতে কুয়েতের ‘আলী আল সালেম’ বিমানঘাঁটিতে এই হামলায় অন্তত ১৫ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ।
সিবিএস নিউজ দুইজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ড্রোন হামলায় আহতদের অধিকাংশের আঘাত গুরুতর নয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তারা নিজ নিজ দায়িত্বে ফিরেছেন। তবে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ঘাঁটিতে হামলার ঘটনাটি ওই অঞ্চলে মোতায়েনকৃত মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, পেন্টাগন এবং কুয়েত সরকার যৌথভাবে এই হামলার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত সকল মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, লেবানন সীমান্তে ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর প্রচণ্ড আক্রমণ শুরু করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের আইনাতা এবং মারকাবাহ শহরে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও ট্যাংক লক্ষ্য করে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। এক বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ জানায়, তারা রকেট ও ‘ডাইভ-বোম্বিং’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর নিখুঁতভাবে হামলা করেছে।
লেবানন সীমান্তের পাশাপাশি ইসরায়েলের অভ্যন্তরেও হিজবুল্লাহর তৎপরতা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা এবং সাসা শহরের ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর তারা সফল হামলা চালিয়েছে।
কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং হিজবুল্লাহর এই বহুমুখী আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অত্যন্ত নাজুক করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে।
Leave a comment