বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তুঙ্গে উঠেছে। ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ শিডিউল অনুযায়ী সচল থাকার দাবি করা হলেও মাঠ পর্যায়ে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। নগরীর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন হয় পুরোপুরি বন্ধ, না হয় সীমিত পরিসরে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রি করছে। এতে করে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত যানবাহনের চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর সিএমপি ফিলিং স্টেশন ও গণিবেকারি এলাকার কিউসি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। সংকট মোকাবিলায় এসব পাম্পে রেশনিং পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা এবং কার বা জিপ গাড়িতে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এদিকে লাভ লেইন এলাকার অ্যাপোলো ফিলিং স্টেশন সম্পূর্ণ বন্ধ পাওয়া গেছে, যেখানে কোনো বিক্রয়কর্মীকেও দেখা যায়নি। ওয়াসা মোড়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টের পাম্পগুলোতেও তেলের জন্য হাহাকার লক্ষ্য করা গেছে।
পাম্প মালিকদের দাবি, গত ১৫ মার্চ সরকারিভাবে রেশনিং তুলে নেওয়ার ঘোষণা এলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা এটি পুনরায় চালু করতে বাধ্য হয়েছেন। এর প্রধান কারণ হিসেবে তারা গ্রাহকদের ‘প্যানিক বায়িং’ বা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে মজুদ করার প্রবণতাকে দায়ী করছেন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির চট্টগ্রাম বিভাগের সদস্য সচিব মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন জানান, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে পাম্পগুলোতে বর্তমানে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “অনেকে বাসায় অতিরিক্ত তেল মজুদ করছেন, যার ফলে স্টেশনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, ডিপো থেকে তেল সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। তবে ডিলাররা বলছেন, চাহিদার তুলনায় প্রাপ্তি অনেক কম। কিউসি পাম্পে রোববার ১৩ হাজার লিটার অকটেন ও ৯ হাজার লিটার ডিজেল এলেও গ্রাহক সংখ্যা দ্বিগুণ হওয়ায় তা দ্রুত শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে মজুদে টান পড়ায় অনেক মালিক সাময়িকভাবে পাম্প বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, তেলের এই সংকট কেবল ব্যক্তিগত ভোগান্তি নয়, বরং পণ্য পরিবহন ও নিত্যপণ্যের দামের ওপরও প্রভাব ফেলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত তদারকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
Leave a comment