বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ধমনী ‘হরমুজ প্রণালি’ ব্যবহার নিয়ে নতুন ও অত্যন্ত কঠোর নীতিমালা ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি এখন থেকে কেবল সেই সব জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, যারা কোনো ‘আগ্রাসী’ শক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মালিকানাধীন বা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ এই পথে চলাচলের অনুমতি পাবে না।
বুধবার (১ এপ্রিল) দক্ষিণ আফ্রিকান টিভি চ্যানেল ‘নিউজরুম আফ্রিকা’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ইসমাইল বাঘাই তেহরানের এই অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, তবে যাতায়াতের ক্ষেত্রে আমাদের নতুন নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। আমাদের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও অনুমোদনের পরই নির্দিষ্ট জাহাজগুলোকে এই পথ দিয়ে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।”
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত প্রসঙ্গে বাঘাই জানান, ইরান আর কোনো ‘দুষ্টচক্রের’ ফাঁদে পা দেবে না। তিনি অভিযোগ করেন, অতীতে আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করে ইরানকে দুর্বল করার কৌশল নিয়েছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। গত জুন মাসের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আশ্বাসে ইরান যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল, কিন্তু মাত্র ৯ মাস পরেই তারা পুনরায় নতুন করে আগ্রাসন শুরু করেছে। বাঘাইয়ের মতে, আলোচনার নামে এই বিশ্বাসঘাতকতা ইরান আর সহ্য করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই অনমনীয় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য যে, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। এই পথে মার্কিন ও ইসরায়েলি জাহাজ নিষিদ্ধ করার ফলে বিশ্ব তেলের বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতা এবং লোহিত সাগর ও ওমান উপসাগর অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment