প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিতর্কিত কণ্ঠশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আপসের শর্তে আদালত থেকে জামিন পেয়েছিলেন নোবেল। তবে জামিনে থাকাকালীন তিনি আপসের সেই শর্তগুলো যথাযথভাবে পালন করেননি বলে অভিযোগ ওঠে। বৃহস্পতিবার মামলার নির্ধারিত হাজিরায় নোবেল আদালতে উপস্থিত হলে বাদীপক্ষ তার জামিন বাতিলের আবেদন জানায়। আদালত শুনানি শেষে শর্ত লঙ্ঘনের বিষয়টি আমলে নিয়ে নোবেলের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী নাসিদুস জামান গণমাধ্যমকে জানান, জামিন পাওয়ার প্রধান শর্তই ছিল মামলার বিষয়বস্তু নিয়ে বাদীপক্ষের সঙ্গে আপস করা এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা। কিন্তু নোবেল সেই শর্ত ভঙ্গ করেছেন, যার প্রেক্ষিতে আদালত এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ আগস্ট শবনম রোজ নামের এক তরুণী গায়ক নোবেলের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, নোবেল ওই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখান এবং ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে প্রায় ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা আত্মসাৎ করেন।
পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি পিবিআই আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে নোবেলের বিরুদ্ধে আনা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২ ফেব্রুয়ারি নোবেলসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এরপর ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
উল্লেখ্য, এই মামলায় নোবেল প্রধান আসামি হলেও তার মা নাজমা হোসেন, স্ত্রী ইসরাত জাহান প্রিয়া এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগীসহ আরও চারজন অভিযুক্ত হিসেবে রয়েছেন। বারবার বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়ায় সংগীত অঙ্গনেও নোবেলকে নিয়ে সমালোচনা নতুন করে দানা বাঁধছে।
Leave a comment