বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার আইনজীবীর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি জুলাই আন্দোলনের সময় তার বিরুদ্ধে আনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। চিঠি পাঠানো হয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আইন সংস্থা কিংসলি ন্যাপলির মাধ্যমে।
আওয়ামী লীগ সূত্র জানিয়েছে, এই চিঠি গত ৩০শে মার্চ ঢাকায় পৌঁছেছে। দলটির কেন্দ্রীয় নেতা মোহাম্মদ আলী আরাফাত বিবিসি বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন, চিঠি আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এটি প্রথমবারের মতো একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিদেশি আইনজীবীর মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালকে চিঠি পাঠালেন।
চিঠিতে বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার প্রক্রিয়াটি “আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ড লঙ্ঘন” করেছে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দেওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে রায়কে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি বলা হয়েছে। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে এটি ‘সামারি এক্সিকিউশন’ বা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সমতুল্য হবে।
চিঠিতে ট্রাইব্যুনালকে ১৪ দিনের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে এবং শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংবাদ মাধ্যমে তারা চিঠির তথ্য পেয়েছেন, তবে অফিসিয়ালি পাওয়ার পর মতামত জানানো হবে।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচার চ্যালেঞ্জ করতে হলে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আপিল করতে হয়। সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বিবিসি বাংলাকে জানান, পলাতক অবস্থায় কোনো আইনি প্রতিকার পাওয়া যায় না। চিঠি পাঠানো হলেও তা ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করে না।
২০২৫ সালের ১৭ই নভেম্বর ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে। ওই রায়ে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং আমৃত্যু কারাদণ্ডসহ তিনটি পৃথক অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। রায়ে তার সম্পদ জব্দ ও আহতদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশও রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় গঠিত এই ট্রাইব্যুনাল ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সময় পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর ১৭ই অক্টোবর প্রথম বিচার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
এই চিঠি পাঠানোর মাধ্যমে শেখ হাসিনা তার অনুপস্থিতিতে রায়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের মানদণ্ড অনুযায়ী পুনর্বিচারের দাবি তুলেছেন।
Leave a comment