মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানে মার্কিন সামরিক অভিযানের সমাপ্তি নিয়ে বড় ঘোষণা দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক কার্যক্রম গুটিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্যসমূহ প্রায় অর্জিত হয়েছে। ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির প্রয়োজন মনে করে না ওয়াশিংটন। বরং পরিস্থিতি বিবেচনা করে একক সিদ্ধান্তেই সামরিক অভিযান সমাপ্ত করা হতে পারে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে, এই অভিযানের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা। তিনি দাবি করেন, সেই লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ হয়েছে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমেই ইরানকে নিয়ন্ত্রণের কৌশল গ্রহণ করা হবে।
শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, ইরানের সরকার পরিবর্তন করা তার লক্ষ্য ছিল না। তবে তিনি দাবি করেন, যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোয় ইতোমধ্যে পরিবর্তনের কিছু সংকেত দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য মূলত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ থেকে সম্মানজনকভাবে বেরিয়ে আসার একটি কৌশল হতে পারে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়েছে। এর ফলে তেহরান সামরিকভাবে অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়েছে বলে তারা মনে করছেন। এ অবস্থায় নতুন করে কোনো পাল্টা হামলা না হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সেনা ও যুদ্ধবিমান সরিয়ে নিতে শুরু করবে।
তবে হরমুজ প্রণালি ঘিরে বিদ্যমান উত্তেজনা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার মাঝে ট্রাম্পের এই আকস্মিক ঘোষণা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলো ট্রাম্পের এই ‘একক সিদ্ধান্তে’ যুদ্ধ সমাপ্তির ঘোষণাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। উল্লেখ্য, এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইতোমধ্যে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
Leave a comment