নাটোরে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন মাস বয়সি কাশফি আক্তার চারদিন ধরে আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে কোনো উন্নতি না হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে সেখানে আইসিইউ না পেয়ে শিশুটি মারা যায়। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাটোরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া।
নিহত কাশফি বড় হরিশপুরের ঋসি নওগাঁ এলাকার সাইফুল ইসলামের প্রথম সন্তান। একমাত্র সন্তানের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যরা শোকে কাতর। শিশুটির মামা আফতাব উদ্দিন জানিয়েছেন, হামের উপসর্গ নিয়ে চারদিন ধরে চিকিৎসাধীন কাশফির অবস্থা অবনতি হলে তাকে সোমবার রাতে রাজশাহীতে রেফার্ড করা হয়। সেখানে আইসিইউ না থাকার কারণে মঙ্গলবার সকালেই তার মৃত্যু হয়।
ডা. কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে আইসিইউ না থাকায় শিশুটিকে রেফার্ড করা হয়েছিল। শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ত্রুটি ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মঙ্গলবার সকাল দশটায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে হামের প্রাদুর্ভাব প্রতিরোধে জনসচেতনতা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবুল হায়াত, হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সুমনা সরকার, জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রোস্তম আলী হেলালী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান এবং নাটোর প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
সভায় জানানো হয়, নাটোর জেলাজুড়ে সোমবার পর্যন্ত ৩৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে ১৩ জন নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ জন শিশুকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি পাঠানো হয়েছে, বাকি চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বলেন, হামের উপসর্গ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। সরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় টিকা মজুদ আছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মসজিদে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে এবং অপপ্রচারে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
Leave a comment