রাজধানীর মিরপুর মডেল থানায় দায়েরকৃত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে পুনরায় রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে হাজির করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা সিএমএম আদালতে শুনানিকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে আবেগঘন বক্তব্য পেশ করেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।
পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে আজ দুপুরে মামুন খালেদকে কড়া নিরাপত্তায় আদালতে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিন অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুনরায় সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী দাবি করেন, এই আসামি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন এবং ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখতে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন রিমান্ডের বিরোধিতা করে বলেন, মামুন খালেদ ২০২১ সালেই অবসরে গেছেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পক্ষে কোনো সামরিক আদেশ দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার থাকে না। তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আদালতের অনুমতি নিয়ে শেখ মামুন খালেদ নিজেই নিজের স্বপক্ষে কথা বলেন। তিনি তার শিক্ষাগত যোগ্যতার উল্লেখ করে বলেন, “আমার তিনটি পিএইচডি এবং পাঁচটি মাস্টার্স ডিগ্রি আছে। গত ২২ বছর ধরে আমি একাডেমিক উৎকর্ষ সাধনে ব্যয় করেছি। আমি একজন শিক্ষক, আমি শিক্ষার্থীদের পড়াই। আমি যেসব স্টুডেন্ট পড়াই, তাদের ওপর কীভাবে গুলি চালানোর নির্দেশ দেব?”
২৪ বছরের সামরিক ক্যারিয়ারের অবমাননার কথা উল্লেখ করে তিনি আক্ষেপের সাথে বলেন, “আমার ২৪ বছরের সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ দিনের রিমান্ডে আমাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, এখন নতুন করে আর কী জানার থাকতে পারে?”
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে নির্বিচারে গুলিবর্ষণে দেলোয়ার হোসেন নামে এক আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীকালে ২১ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নিহতের স্ত্রী লিজা বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গত ২৫ মার্চ রাতে মিরপুর এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ শেখ মামুন খালেদকে গ্রেপ্তার করে। আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রিমান্ডের বিষয়ে আদেশের অপেক্ষায় রয়েছেন। রাজধানীর আদালত পাড়ায় এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
Leave a comment