মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এখন আর কেবল সীমান্ত সংঘর্ষে সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ইরানের জনবহুল আবাসিক এলাকাগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাতে ইরানের মারকাজি প্রদেশের মহল্লাত শহরে এক ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ‘ইসনা’ (ISNA) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহল্লাত শহরের তিনটি বহুতল আবাসিক ভবন সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। আকস্মিক এই হামলায় ব্যাপক জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ সামরিক অভিযান “এপিক ফিউরি” (Epic Fury)-র অধীনে এটি অন্যতম প্রাণঘাতী বেসামরিক হামলার ঘটনা। বর্তমানে উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
মহল্লাতের পাশাপাশি রাজধানী তেহরান এবং পারমাণবিক সমৃদ্ধ শহর ইসফাহানেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসফাহানে হওয়া একটি হামলার ভিডিও শেয়ার করেছেন, যেখানে বিশাল আগুনের গোল্লা রাতের আকাশকে আলোকিত করতে দেখা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইসফাহানের ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল মজুত ছিল, যা ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার মূল লক্ষ্য।
ইরানি ভূখণ্ডে হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরানও পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দুবাই উপকূলে একটি কুয়েতি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত হেনেছে ইরান। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল ১০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযানে আরও চার সেনা এবং দুই জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আজ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন লোকদেখানো যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও অন্যদিকে ইরানি ভূখণ্ডে সরাসরি হামলার তীব্রতা বাড়ানোয় বিশ্ববাসী এক চরম অনিশ্চয়তা ও সম্ভাব্য বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
Leave a comment