রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে। রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে শিশুমৃত্যুও বেড়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা উন্নত না করলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, গত আট সপ্তাহে ঢাকা বিভাগে ২৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ২১ জন মারা গেছে মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এবং তিনজন সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) গত দুই সপ্তাহে ১২টির বেশি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিন মাসে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ১২ দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চট্টগ্রামে অন্তত ২৪ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে, সিলেটেও তিনদিনে ৩০ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আগের সরকারের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য ও টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ হওয়ায় টিকাদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে সংক্রমণ বেড়ে যেতে পারে। জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, “টিকাদান কার্যক্রমে অপারেশনাল পরিকল্পনা, অর্থায়ন ও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থার অর্থায়ন কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে।”
ঢাকা বিভাগের ভেতরে সংক্রমণ বিস্তৃত। ২৮ মার্চ পর্যন্ত গত দুই মাসে ঢাকা বিভাগে ৬০১ জন আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৯১, ঢাকা দক্ষিণে ৬৯, ঢাকা জেলায় ৩০, নারায়ণগঞ্জে ৩১, নারসিংদীতে ১৬ এবং গাজীপুরে ২০ জন। কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইলেও সংক্রমণ ছড়িয়েছে।
রাজশাহী বিভাগে চলতি বছর ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৩৪২টি সন্দেহজনক হাম রোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৪৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয় এবং ৭৭ জনে হাম শনাক্ত হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা ও কুষ্টিয়া জেলায় প্রকোপ বেশি। রাজশাহীতে তুলনামূলকভাবে কম।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, শিশুদের টিকাদানে কোনো গ্যাপ থাকলে প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে। হাসপাতালগুলোতে হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য পৃথক ‘হাম কর্নার’ চালু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানিয়েছেন, নতুন করে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা টিকা ক্রয়ের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জুলাই-আগস্টে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সারা দেশে শিশুদের হামের টিকা দেয়া হবে।
এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দিচ্ছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে টিকা প্রতিরোধযোগ্য এই ছোঁয়াচে রোগ শিশুদের প্রাণহানির বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে।
Leave a comment