এমরান হোসেন (জামালপুর প্রতিনিধি)।জামালপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একদিনে জেলার বিভিন্ন স্থানে ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ছয়জন বিভিন্ন বয়সের শিশু ও নারী। ভুক্তভোগী প্রত্যেককেই চিকিৎসার জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে সাড়ে তিন বছরের এক শিশু এবং একজন প্রতিবন্ধী শিশুও রয়েছে।
শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল থেকে রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল এই ২৪ ঘন্টায় এসব ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ভুক্তভোগী সবাই জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে বলে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে মাদারগঞ্জ উপজেলার ২ নং কড়ইচড়া ইউনিয়নের ভেলামারি (সামানপাড়া) এলাকায় থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ১২ বছর বয়সী এক শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এ ঘটনায় কড়ইচড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমানের (৪৫) বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী শিশুর মা। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত মাসুদুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য জামালপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত আছে।
হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় আরও পাঁচজন ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন। তাদের মধ্যে ইসলামপুর উপজেলায় সাড়ে তিন বছরের এক কন্যা শিশু ও ২৯ বছর বয়সী এক নারী, মেলান্দহ উপজেলায় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী, জামালপুর সদর উপজেলায় ২১ বছর ও ৪০ বছর বয়সী দুই নারী রয়েছেন।
২৪ ঘন্টায় জেলায় নির্যাতনের শিকার হয়ে এতগুলো ভুক্তভোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সচেতন মহল মনে করেন, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়ায়, এ ধরনের অপরাধ উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও তথ্য প্রযুক্তির অপব্যবহার বন্ধ না হলে এই সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করা সম্ভব হবে না। এ বিষয়ে পাড়ায় পাড়ায় জনসচেতনতা ও জনপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক কর্মকর্তা ডা. তরিকুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার জন্য আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ঘটনায় পৃথক পৃথক মামলার প্রক্রিয়া চলমান। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
Leave a comment