টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমুদ্রে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়া আরও জোরদার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে পূর্ব মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) অংশুমান সাহা, তমলুক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তদন্তের সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিনেতার মৃত্যুর ঘটনায় দিঘা থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের হাতে শুটিং চলাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ এসেছে। এসপি বলেন, “আমরা একটি ফুটেজ পেয়েছি যেখানে রাহুলকে শেষবার পানিতে দেখা গিয়েছিল। তবে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে সেই ফুটেজে কোনো ‘লাইফ সেভিং’ বা জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জামের ব্যবস্থা দেখা যায়নি।”
তদন্তের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রক্ষা করে চলছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে এবং ওডিশা পুলিশ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। রাহুলকে উদ্ধারের সময় তিনি জীবিত ছিলেন কি না, তা নিয়ে পুলিশ এখনই নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুটিং ইউনিটের সূত্রমতে, রোববার সারাদিন ব্যস্ত থাকার পর বিকেলের দিকে একাই সমুদ্রে নেমেছিলেন রাহুল। ধারণা করা হচ্ছে, পানিতে নামার পর তাঁর পা বালিতে আটকে গিয়েছিল এবং সেই মুহূর্তেই একটি বড় ঢেউ আছড়ে পড়ে। সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা চিৎকার করে লোক জড়ো করার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।
এদিকে, এই কঠিন সময়ে পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন রাহুলের সহধর্মিণী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তায় তিনি লিখেছেন, “এই মুহূর্তটি গভীর শোক ও হতাশার। একজন স্বামীকে হারানো, একটি সন্তানের পিতৃহারা হওয়া এবং একজন মায়ের অসহায়ত্বের কথা বিবেচনা করে দয়া করে আমাদের শান্তিতে থাকতে দিন।” প্রিয়াঙ্কা আরও অনুরোধ করেন, যেন এই শোকাতুর সময়ে কেউ তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে হস্তক্ষেপ না করেন।
রাহুলের মরদেহ আজ ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে বিনোদন জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
Leave a comment