মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতময় পরিস্থিতিতে জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-রুট হরমুজ প্রণালি এবং ওমান উপসাগর এখন তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইরানের নৌবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে মোতায়েনরত মার্কিন বাহিনীর যেকোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তেহরান। তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক সুরে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানের উপকূলীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা এখন পূর্ণ সজাগ এবং মার্কিন সৈন্যরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের সীমার (Range) মধ্যে আসা মাত্রই লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানি কমান্ডারের দাবি অনুযায়ী, ইরানের সামরিক মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৎপরতার মুখে মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানি জলসীমা থেকে শত শত মাইল দূরে সরে গিয়ে বর্তমানে এই মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি অবস্থান করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “হরমুজ প্রণালির পূর্বাঞ্চল এবং ওমান উপসাগর বর্তমানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের নৌবাহিনীর নিশ্ছিদ্র নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের এই একক আধিপত্যের দাবি বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। যেহেতু বিশ্বের মোট উৎপাদিত তেলের একটি বিশাল অংশ এই রুট দিয়ে পরিবাহিত হয়, তাই এখানে যেকোনো সামরিক সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
মার্কিন রণতরীকে হটিয়ে দেওয়ার এই দাবি ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনাকে সরাসরি যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে ঠেলে দিয়েছে। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না জানালেও, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ ও জলসীমায় আধিপত্য বিস্তারের এই লড়াই আগামী দিনগুলোতে আরও রক্তক্ষয়ী রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
Leave a comment