মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল টেলিফোন নম্বরে ফোন করলে কলার আইডিতে বিতর্কিত ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ (Epstein Island) নাম ভেসে ওঠার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিকরা হোয়াইট হাউসে যোগাযোগ করতে গিয়ে এই অদ্ভুত কারিগরি বিভ্রাটের সম্মুখীন হন। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল এই ত্রুটির কথা স্বীকার করেছে এবং এর পেছনে দায়ী ব্যক্তিকে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে।
হোয়াইট হাউসে ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার’ শীর্ষক একটি সম্মেলন চলাকালে ঘটনাটি ঘটে। অনুষ্ঠানে মেলানিয়া ট্রাম্প ‘ফিগার ০৩’ নামক একটি অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবটের সঙ্গে অতিথিদের অভিবাদন জানাচ্ছিলেন। ওই সময় ফার্স্ট লেডির পোশাকের ব্র্যান্ড সম্পর্কে তথ্য জানতে ওয়াশিংটন পোস্টের ‘স্টাইল’ বিভাগ থেকে হোয়াইট হাউসের সুইচবোর্ডে ফোন করা হলে সাংবাদিকদের মোবাইল স্ক্রিনে ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামটি ভেসে ওঠে।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, এই বিভ্রাটটি মূলত গুগলের ‘পিক্সেল’ ব্র্যান্ডের অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। গুগলের মুখপাত্র ম্যাথিউ ফ্লেগাল জানিয়েছেন, এটি গুগল ম্যাপের একটি ‘ফেক এডিট’ বা ভুয় তথ্য ইনপুটের কারণে হয়েছে। গুগলের কলার আইডি ফিচার সাময়িকভাবে ওই ভুল তথ্যটি গ্রহণ করেছিল। গুগল দ্রুত এই ত্রুটি সংশোধন করেছে এবং যে ব্যক্তি এই বিভ্রান্তিকর তথ্যটি যুক্ত করেছিলেন, তাকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ ও বহিষ্কার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, এই বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি বাহ্যিক কারিগরি ত্রুটি। এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ টেলিফোন সিস্টেমের কোনো সম্পর্ক নেই।
উল্লেখ্য, নারী ও শিশু পাচারসহ গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত মৃত জেফরি এপস্টেইনের মালিকানাধীন ‘লিটল সেন্ট জেমস’ দ্বীপটি ‘এপস্টেইন আইল্যান্ড’ নামে পরিচিত। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এপস্টেইনের পুরনো সম্পর্ক নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে হোয়াইট হাউস যখন নানা প্রশ্নের মুখে রয়েছে, ঠিক তখনই এমন বিব্রতকর ঘটনাটি ঘটল।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগল ম্যাপের মতো উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে তথ্য পরিবর্তন করে ‘মিম’ তৈরি বা বিভ্রান্তি ছড়ানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে হোয়াইট হাউসের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এমন নিরাপত্তা ও তথ্য বিভ্রাট প্রযুক্তি বিশ্বের অ্যালগরিদম ও মডারেশন ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে।
Leave a comment