চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা অভিমুখী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে ফৌজদারহাটের বিএমএ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা (ডিটিও) আনিসুর রহমান জানান, ট্রেনটির পাওয়ার কার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে পরে একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ছড়িয়ে পড়ে। তবে আগুন ভয়াবহ আকার ধারণ করার আগেই যাত্রীরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে সক্ষম হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সকাল ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
জানা গেছে, সকাল ৬টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনটি সকাল ৬টা ৫৭ মিনিটে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী ও ফৌজদারহাট রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছালে দুটি বগিতে আগুনের বিষয়টি ধরা পড়ে। এতে ট্রেনটি থেমে যায়। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা যাত্রীদের নিরাপদে নামতে সহায়তা করেন। ১৬ বগির ট্রেনটিতে ৬০০ জনেরও বেশি যাত্রী ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয় এবং অনেকে তড়িঘড়ি করে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন। পাশের একটি প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ফুটেজেও আগুন লাগার বিষয়টি ধরা পড়ে।
কুমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা আহসান আলী বলেন, পাওয়ার কার থেকে পাশের কোচে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে দুটি কোচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঘটনার পর প্রায় চার ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। এতে ভাটিয়ারী ও ফৌজদারহাট স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়ে। পরে বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টার মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, অক্ষত বগিগুলো কুমিরা স্টেশনে নেওয়ার পর নতুন দুটি বগি যুক্ত করে সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটি চট্টগ্রামের মেরামত কারখানায় পাঠানো হয়েছে।
বিভাগীয় রেলওয়ের ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া জানান, আগুনের কারণ অনুসন্ধানে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
Leave a comment