ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চলমান সামরিক অভিযানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের প্রাথমিক ও অনড় অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার টেনেসি অঙ্গরাজ্যের মেমফিসে আয়োজিত ‘সেফ টাস্ক ফোর্স’-এর এক গোলটেবিল বৈঠকে ট্রাম্প জানান, হেগসেথই ছিলেন সেই ব্যক্তি যিনি প্রথম সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।
বৈঠকে হেগসেথের উপস্থিতিতেই ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “পিট, আমার মনে হয় আপনিই প্রথম বলেছিলেন—চলুন এটি করি। কারণ তাদের কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া যায় না।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে, বর্তমান পেন্টাগন প্রধানের পরামর্শই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কৌশলের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত বর্তমানে চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। হেগসেথ সম্প্রতি পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে উল্লেখ করেছিলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করা, ড্রোন উৎপাদন কেন্দ্রগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের নৌবাহিনীকে অকার্যকর করে তোলা। যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে অস্পষ্টতা বজায় রাখলেও হেগসেথ জানিয়েছেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং প্রেসিডেন্ট এবং অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ীই এগোচ্ছে।
তবে এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে ঐকমত্যের অভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এই অভিযানে হেগসেথের মতো ততটা উৎসাহী ছিলেন না। বৈদেশিক হস্তক্ষেপে দীর্ঘকাল ধরে বিরোধী ভ্যান্স জনসমক্ষে সমালোচনা না করলেও নেপথ্যে তার অবস্থান ছিল সতর্কতামূলক। অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-সহ প্রশাসনের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য এই যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সন্দিহান ছিলেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, এই যুদ্ধের পেছনে বাহ্যিক প্রভাব কাজ করেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং মিডিয়া মোগল রুপার্ট মারডক শুরু থেকেই ট্রাম্পকে ইরানে হামলার বিষয়ে উৎসাহিত করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টার টেরোরিজম সেন্টারের সাবেক প্রধান জো কেন্ট পদত্যাগ করেন। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলের স্বার্থরক্ষার্থেই যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধের পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
Leave a comment