ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রবার্ট পেপ দাবি করেছেন, ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির ফাঁদে’ পড়েছেন। এনডিটিভি-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করেন যে, এই পরিস্থিতি ওয়াশিংটনকে একটি অনিচ্ছাকৃত এবং দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
অধ্যাপক পেপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে যে কৌশল গ্রহণ করেছে তা পরিস্থিতির গভীরতা ও জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প এখনও মার্কিন মেরিন সেনাবাহী জাহাজগুলোর গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেননি, যা ইঙ্গিত দেয় যে পর্দার আড়ালে বড় ধরনের সামরিক প্রস্তুতির কাজ চলছে। পেপ মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে পাঁচ দিনের জন্য হামলা কমানোর যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা মূলত একটি সময়ক্ষেপণের কৌশল মাত্র। এর মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন মেরিন সেনাদের পৌঁছানো পর্যন্ত কৌশলগত সুবিধা বজায় রাখা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, মার্কিন সেনারা ইরানি ভূখণ্ডের কাছাকাছি পৌঁছালে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারানো সহজ হয়ে পড়বে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অধ্যাপক পেপ ‘উত্তেজনা বৃদ্ধির ফাঁদ’ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, যখন কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্র তার সামরিক সাফল্যকে কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক বা কৌশলগত লক্ষ্যে রূপান্তর করতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে সংঘাত বাড়তে থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তা একটি পূর্ণাঙ্গ ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে রূপ নেয়।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কৌশলগতভাবে ইরানের জন্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে তেলের ওপর আধিপত্য বিস্তারকারী শক্তি হিসেবে ইরানের উত্থান যুক্তরাষ্ট্র সব সময় এড়াতে চেয়েছে, কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই সম্ভাবনাকেই জোরালো করছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে পেপ পরামর্শ দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার নীতিগত অবস্থানে কঠোর হতে হবে এবং বিশেষ করে ইসরায়েল-সংক্রান্ত সামরিক পদক্ষেপগুলো নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
Leave a comment