যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের অন্যতম ব্যস্ততম লা-গার্দিয়া বিমানবন্দরে এক ভয়াবহ ও নজিরবিহীন বিমান দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। রোববার (২২ মার্চ) গভীর রাতে অবতরণের সময় এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে রানওয়েতে থাকা একটি অগ্নিনির্বাপক ট্রাকের সংঘর্ষে বিমানের দুই পাইলট নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার পর বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পোর্ট অথরিটি অফ নিউ ইয়র্ক অ্যান্ড নিউ জার্সি জানিয়েছে, বিমানবন্দরের ৪ নম্বর রানওয়েতে যখন এয়ার কানাডা এক্সপ্রেসের বিমানটি অবতরণ করছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে একটি অগ্নিনির্বাপক ট্রাক জরুরি প্রয়োজনে রানওয়ে অতিক্রম করছিল। যদিও সংঘর্ষের সময় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় মাত্র ৩৯ কিলোমিটার (২৪ মাইল), তবুও এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত জোরালো। এতে বিমানের সামনের অংশ বা ‘নোজ’ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে ওপরের দিকে হেলে পড়ে।
দুর্ঘটনার নেপথ্যে থাকা অডিও রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কয়েক মিনিট আগে ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলোকে রানওয়েতে পজিশন নিতে বলা হয়। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে একটি ট্রাককে ৪ নম্বর রানওয়ে অতিক্রম করার অনুমতি দেওয়া হলেও, সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করতে পেরে নিয়ন্ত্রক চিৎকার করে বলতে থাকেন, “থামো, থামো, ট্রাক ১ থামো!” কিন্তু সেই সতর্কবার্তা পৌঁছানোর আগেই সংঘর্ষটি ঘটে যায়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানের দুই পাইলট ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বিমানের ভেতরে থাকা ডজনখানেক যাত্রী আহত হয়েছেন, যাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, অগ্নিনির্বাপক গাড়িটিতে থাকা পুলিশের দুইজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের হাত-পা ভেঙে গেলেও বর্তমানে তারা আশঙ্কামুক্ত।
দুর্ঘটনার জেরে লা-গার্দিয়া বিমানবন্দর থেকে অন্তত ১৮টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে এবং অবতরণের অপেক্ষায় থাকা বিমানগুলোকে পার্শ্ববর্তী অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) কারিগরি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
Leave a comment