মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। রোববার (২২ মার্চ) ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চল ও বাণিজ্যিক রাজধানী তেল আবিব লক্ষ্য করে ইরানের ছোড়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র থেকে নিক্ষিপ্ত ‘ক্লাস্টার মিউনিশন’ বা গুচ্ছ বোমার আঘাতে অন্তত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। জরুরি সেবা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও উদ্ধারকারী সংস্থা ‘ম্যাগান ডেভিড অ্যাডম’ জানিয়েছে, রোববার ভোর থেকে দফায় দফায় অন্তত চারবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ক্লাস্টার বোমা ব্যবহার করায় তেল আবিব ও এর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিস্ফোরক বা ‘বোম্বলেট’ ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি, ব্যক্তিগত যানবাহন ও প্রধান সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তেল আবিবের সোরাস্ক মেডিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, তাদের সেখানে সাতজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের আঘাত মাঝারি ধরনের গুরুতর। চিকিৎসাধীনদের মধ্যে ৫৩ বছর বয়সী এক ব্যক্তির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে। এছাড়া জাফ্ফা এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে এবং পেটা তিকভায় একটি বসতবাড়িতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
একই দিনে ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর ডিমোনা ও আরাদে চালানো পূর্ববর্তী হামলার ক্ষত এখনো দগদগে। সেখানে আহত ৩৬ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে ১৯ জনই শিশু। রোববারের এই সিরিজ হামলার সময় পুরো ইসরায়েল জুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যার ফলে লাখ লাখ মানুষ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
হামলা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি নাগরিকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্ধারিত নিয়ম মেনে যারা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করবেন, তারা নিরাপদ থাকবেন।”
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান কর্তৃক ক্লাস্টার মিউনিশন ব্যবহার যুদ্ধের ভয়াবহতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনায় ক্লাস্টার বোমা অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ এটি একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যের পরিবর্তে বিশাল এলাকাজুড়ে শত শত ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়, যা পরবর্তী দীর্ঘ সময় ধরে বেসামরিক নাগরিকদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে থাকে। আন্তর্জাতিক মহলে এই নিষিদ্ধ সমরাস্ত্র ব্যবহারের ফলে উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
Leave a comment