মধ্যপ্রাচ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানের আকাশসীমায় অভিযান পরিচালনাকারী ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য (surface-to-air) ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। শনিবার (২১ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইডিএফ জানায়, তাদের যুদ্ধবিমানগুলো যখন মিশন পরিচালনা করছিল, তখন ইরানি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণের ফলে কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি এবং নির্ধারিত অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে তেল আবিব।
অন্যদিকে, এই ঘটনার রেশ ধরে ইরান অত্যন্ত আক্রমণাত্মক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনী ও ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) এক যৌথ বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা ইসরায়েলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরের কাছে সফল ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
তেহরানের দাবি অনুযায়ী, এই ড্রোন হামলায় বিমানবন্দরের একটি বিশাল জ্বালানি ট্যাংক এবং একটি সামরিক রিফুয়েলিং (জ্বালানি সরবরাহকারী) উড়োজাহাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর উড্ডয়ন কার্যক্রম এবং লজিস্টিক সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ইরান আরও দাবি করেছে, হামলার তীব্রতায় ইসরায়েলকে তাদের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ইউনিট ও সেনাসদস্য সরিয়ে নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, তেল আবিবের নিকটবর্তী বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সামরিক ও লজিস্টিক হাব হিসেবে পরিচিত। এখানে যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিশেষ স্কোয়াড্রন মোতায়েন থাকে।
ইরানি সামরিক কমান্ড সতর্ক করে জানিয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর যেকোনো হুমকি সম্পূর্ণভাবে নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে এই ধরনের নিখুঁত অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরাসরি যুদ্ধবিমান ও মূল ভূখণ্ডের বিমানবন্দরে এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
Leave a comment