মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও পারস্য উপসাগরে আটকে থাকা বাংলাদেশি নাবিকরা শুক্রবার (২০ মার্চ) তাদের জাহাজে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন। বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’-র ৩১ জন ক্রু স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিট) নেভিগেশন ব্রিজে একত্রে ঈদের জামাতে নামাজ আদায় করেন।
নামাজের পর ক্রুরা গ্রুপ ছবি তুলেছেন, গান শুনেছেন, সিনেমা দেখেছেন এবং একে অপরের সঙ্গে গল্প করেছেন। ক্রুদের উৎসব উদযাপন নিরাশাজনক পরিস্থিতির মধ্যেও অনুপ্রাণিত করে। জাহাজটি গত ১০ দিন ধরে পারস্য উপসাগরে আটকা আছে। ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার কারণে এই অঞ্চলে সামুদ্রিক চলাচল প্রায় বন্ধ রয়েছে।
জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, “জাহাজে ঈদ সাধারণত আনন্দদায়ক, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আমরা সবাই মিলে দিনটিকে যতটা সম্ভব আনন্দময় করার চেষ্টা করছি। সকালে হালকা বৃষ্টি ও কিছুটা ঝড়ো বাতাস থাকলেও ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার কাছাকাছি কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি।” তিনি আরও বলেন, “মানসিক চাপ কমাতে ক্রু সদস্যরা পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে যুদ্ধের চাপ সামলে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।”
জাহাজটি ২৭ ফেব্রুয়ারি কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে রওনা হয় এবং জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছায়। বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে কার্যক্রম কিছুদিন স্থগিত থাকায় জাহাজটি মালামাল খালাস না করে তিন দিন আটকে থাকে। ২ মার্চ কার্যক্রম পুনরায় শুরু হলে খালাস সম্পন্ন হয়, কিন্তু নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ১১ মার্চ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তখন থেকে জাহাজটি পারস্য উপসাগরে অবস্থান করছে।
বিএসসি-র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক জানান, “আমরা ক্রুদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং তাদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে মানসিক সমর্থন দিচ্ছি। জাহাজটির ইউরিয়া সার বোঝাই করার জন্য রুওয়াইস বন্দরে নোঙর করা হবে এবং হরমুজ প্রণালি নিরাপদে পার হওয়ার জন্য কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।”
উত্তেজনার মধ্যেও বাংলাদেশি নাবিকরা ঈদের দিনকে মর্যাদাপূর্ণভাবে উদযাপন করেছেন, যা তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও মানসিক শক্তিকে চিহ্নিত করছে।
Leave a comment