মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ করেছে ইরান। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে একটি জ্বালানিবাহী ট্যাঙ্কার থেকে প্রায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার ফি আদায় করা হয়েছে, যা এই নতুন ব্যবস্থার বাস্তবায়নের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছে বলে জানা গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হওয়ায় এই পথের ওপর নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন ভেটিং বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি জাহাজকে আগাম নিবন্ধন করতে হবে এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই টোল আদায় শুরু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে ইরান দাবি করেছে, কিছু বন্ধুপ্রতীম দেশের জাহাজকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের ক্ষেত্রে এই বিধিনিষেধ শিথিল রাখা হয়েছে। এর মধ্যে এশিয়ার কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে এই নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক বাণিজ্য প্রবাহ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a comment