সারাদেশে যখন রমজানের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, তখন ধর্মীয় ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জ, ফরিদগঞ্জসহ প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রামে আজ শুক্রবার (২০ মার্চ, ২০২৬) যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা এই আগাম ঈদ উদযাপন করছেন।
শুক্রবার সকাল ৯টায় সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন দরবার শরীফের পীরজাদা আল্লামা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী। এছাড়াও সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সাদ্রা হামিদিয়া ফাজিল মাদ্রাসা মাঠে পৃথক আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যার ইমামতি করেন পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী। দুই ঈদগাহ ময়দানেই হাজার হাজার মুসল্লির সমাগম ঘটে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
সাদ্রা দরবার শরীফের পীরজাদা আরিফুল্লা চৌধুরী জানান, ১৯২৮ সাল থেকে সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.) বৈশ্বিক চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই প্রথা চালু করেন। তিনি বলেন, “প্রথমে অনুসারীর সংখ্যা কম থাকলেও বর্তমানে চাঁদপুরের বাইরেও দেশের বিভিন্ন জেলায় আমাদের এই নীতি অনুসরণ করে ঈদ উদযাপিত হচ্ছে।”
তবে এবার রোজা রাখা এবং ঈদ উদযাপনের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় মুসল্লিরা। দরবার শরীফের অনুসারী ইয়াহিয়া চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশের চাঁদ দেখার সংবাদ প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় তারা তড়িঘড়ি করে ঈদ না করে রমজানের ৩০ দিন পূর্ণ করেছেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে শুক্রবার জুমাবারকে ঈদের দিন হিসেবে ধার্য করা হয়েছে।
চাঁদপুরের যেসব গ্রামে আজ ঈদ উৎসব পালিত হচ্ছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—হাজীগঞ্জের সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপপুর ও বাসারা। ফরিদগঞ্জের লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, সোনাচোঁ ও উভারামপুর। এছাড়াও মতলব ও কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রামের আংশিক বাসিন্দারা আজ ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছেন। দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী ধরে চলা এই প্রথা এখন চাঁদপুরের একটি স্বতন্ত্র ধর্মীয় সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে।
Leave a comment