Home জাতীয় অপরাধ পাত্রীর বিজ্ঞাপনে প্রেমের ফাঁদে কোটি টাকা খোয়ালেন উপসচিব
অপরাধ

পাত্রীর বিজ্ঞাপনে প্রেমের ফাঁদে কোটি টাকা খোয়ালেন উপসচিব

Share
Share

পত্রিকায় প্রকাশিত ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা পরিচয় থেকে এক নারী সরকারি কর্মকর্তা প্রতারণার শিকার হয়ে প্রায় কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের এক উপসচিবের সঙ্গে এই প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী দুটি মামলা দায়ের করেছেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

মামলা সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত মো. মনিরুজ্জামান ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর একটি জাতীয় দৈনিকে ‘ডিভোর্সি বা বিধবা পাত্রী চাই’ শিরোনামে বিজ্ঞাপন দেন। ওই বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে উপসচিব তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নিজেকে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে পরিচয় দেন। এরপর নিয়মিত যোগাযোগ ও সাক্ষাতের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মনিরুজ্জামান ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং একপর্যায়ে তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পাশাপাশি কৌশলে তাকে সাভারে একটি আবাসিক প্লটে বাড়ি নির্মাণে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করেন। বিয়ের প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করে ওই নারী বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক হিসাব ও নগদে বিপুল পরিমাণ অর্থ তার কাছে দেন।

এজাহার অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকের দুটি হিসাব থেকে প্রায় ৭২ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আইএফআইসি ব্যাংকের একটি হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। এছাড়া নগদসহ অন্যান্য মাধ্যমে আরও প্রায় ১০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে প্রতারণার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৮২ লাখ টাকার বেশি।

তবে পরবর্তীতে বাড়ি নির্মাণকাজে অনিয়ম দেখা দিলে এবং বিয়ের বিষয়ে চাপ প্রয়োগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি টালবাহানা শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়েও অনীহা প্রকাশ করেন। উল্টো ভুক্তভোগীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ঘটনায় প্রতারণা ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানকে আটক করে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

ভুক্তভোগীর আইনজীবী জানিয়েছেন, সরলতার সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই প্রতারণা করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও ভুক্তভোগী জড়িত থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, অর্থ লেনদেনটি বাড়ি নির্মাণসংক্রান্ত ছিল এবং বিষয়টি মূলত ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে আইনি জটিলতায় রূপ নিয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একই কৌশলে আরও মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলার চেষ্টা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি এখন বিচারাধীন এবং তদন্ত শেষে আদালতেই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

 

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের কারখানা: ফজলুর রহমান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘স্বাধীনতাবিরোধী অমানুষদের কারখানা’ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক...

শাহজালালে ইমিগ্রেশন সিন্ডিকেট: কোড বললেই ছাড়, আটকে যাচ্ছেন প্রকৃত পর্যটক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশনে প্রকৃত ও সাধারণ পর্যটকদের নানা অজুহাতে আটকে হয়রানি করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অন্যদিকে সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্রের মাধ্যমে যোগাযোগ...

Related Articles

মুরাদনগরে ১৩৩ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

কুমিল্লার মুরাদনগরে ১৩৩ পিস ইয়াবাসহ দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত বুধবার...

নওগাঁয় ৯ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় চালকসহ গ্রেপ্তার ৩

নওগাঁর মহাদেবপুরে ব্যবসায়ীর ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পিকআপচালকসহ তিনজনকে...

খুলনায় সিগারেট দেওয়ার ছলে বিএনপি নেতার ছেলেকে গুলি করে হত্যা

খুলনার ডুমুরিয়ায় তরিকুল ইসলাম শেখ (৩৫) নামের এক মাছের ঘের ব্যবসায়ীকে গুলি...

নারী ক্রিকেটারকে যৌন হয়রানির প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি

  সাবেক নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের...

;