সারাদেশে যখন নাড়ির টানে বাড়ি ফেরার উৎসবমুখর পরিবেশ এবং রোজার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে, ঠিক তখনই এক ব্যতিক্রমী ঘটনার সাক্ষী হলো চাঁদপুর জেলা। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকালে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা গ্রামে মাইকে ‘ঈদ মুবারক’ ঘোষণা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদুল ফিতর উদযাপন করা হয়েছে।
সাধারণত চাঁদপুরের অর্ধশতাধিক গ্রামে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের দীর্ঘদিনের রীতি রয়েছে। তবে সাদ্রা দরবার শরিফের মরহুম পীর মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর ছেলে মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা এবার মধ্যপ্রাচ্যেরও একদিন আগে ঈদের জামাত আদায় করেছেন।
মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক এ বিষয়ে যুক্তি দিয়ে জানান, “নাইজার, মালিসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে চাঁদ দেখা গেছে। যেহেতু সারা দুনিয়ায় চাঁদ একটিই, তাই একই দিনে ঈদ হওয়া যৌক্তিক। এই বিশ্বাস থেকেই আমরা আজ ১৯ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপন করছি।” তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, সাদ্রা গ্রামের একাধিক স্থানে আজ ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হঠাৎ মাইকে ঈদের ঘোষণা শুনে আশপাশের গ্রামের মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়। এক প্রত্যক্ষদর্শী মাদ্রাসা শিক্ষক জানান, “সকালে হঠাৎ মাইকে ‘ঈদ মুবারক’ শুনে পাশের গ্রাম থেকে গিয়ে দেখলাম, সেখানে সত্যিই ঈদের নামাজ শুরু হয়েছে। এটি বেশ অবাক করার মতো বিষয় ছিল, কারণ সাধারণত আমরা জানি কাল বা পরশু ঈদ হতে পারে।”
উল্লেখ্য যে, ১৯২৮ সাল থেকে মাওলানা ইসহাক (রহ.)-এর হাত ধরে সাদ্রা গ্রামে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালনের প্রথা শুরু হয়। তবে সময়ের ব্যবধানে এখন সেই রীতির মধ্যেও ভিন্নতা দেখা দিচ্ছে। সাদ্রা গ্রামের বড় একটি অংশ আগামীকাল শুক্রবার সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রস্তুতি নিলেও, মাওলানা আবু বকর সিদ্দিকের অনুসারীরা একদিন আগেই উৎসব শুরু করে দিয়েছেন।
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ছাড়াও ফরিদগঞ্জ, মতলব ও কচুয়া উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে কয়েক হাজার মানুষ প্রতি বছর আগাম ঈদ উদযাপন করে থাকেন, যা জেলার ধর্মীয় ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত।
তথ্যসূত্র: কালের কণ্ঠ
Leave a comment