আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে হঠাৎ বড় ধরনের পতন দেখা গেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স–এর খবরে বলা হয়েছে, বুধবার স্পট গোল্ডের দাম এক মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার এবং তেলের দামের ঊর্ধ্বগতিই মূলত এই পতনের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। তেলের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন, মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রাখতে পারে।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল সোয়া ৯টার দিকে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৪৪ দশমিক ২০ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসও সমপরিমাণ কমে ৪ হাজার ৮৪৫ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়ায়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন ডলার শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ কেনা তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। এতে স্বর্ণের চাহিদা কমে গিয়ে বাজারে দামের ওপর চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া সুদের হার বেশি থাকলে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের প্রতি বিনিয়োগ আগ্রহ কমে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং মুদ্রানীতির দিকনির্দেশনা স্বর্ণের দামের ভবিষ্যৎ প্রবণতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকেরা।
Leave a comment