ইরানের রাজধানী তেহরানের বেহেশতে জাহরা কবরস্থান যেন এক বিশাল শোকস্তম্ভে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহতদের দাফনকে কেন্দ্র করে সেখানে প্রতিদিনই নতুন কবর খোঁড়া হচ্ছে, আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠছে পরিবেশ।
এক তরুণের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তার মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “দুই মাস ছেলেকে দেখিনি, অবশেষে ফিরল কফিনবন্দি হয়ে।” কবরস্থানজুড়ে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত এক হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এরফান শামেই, যিনি পশ্চিমাঞ্চলের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিস্ফোরণে প্রাণ হারান। কয়েক দিনের মধ্যেই তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল, এমনকি বিয়ের প্রস্তুতিও চলছিল।
কবরস্থানের বিভিন্ন অংশে নিহতদের ছবি ও জাতীয় পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। কেউ নীরবে কাঁদছেন, আবার কেউ বুক চাপড়ে শোক প্রকাশ করছেন। লাউডস্পিকারে শোকসংগীত বাজছে, কবরের ওপর ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে ফুলের পাপড়ি।
স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি ক্ষোভও স্পষ্ট। এক নিহত যুবকের মা বলেন, “আমাদের হৃদয় পুড়িয়ে দিলে আমরা থেমে যাব না, আমরা নতও হব না।”
যুদ্ধের এই ভয়াবহতা শুধু প্রাণহানিই নয়, ইরানের মানুষের মনে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে—যার প্রতিচ্ছবি তেহরানের এই কবরস্থানে স্পষ্ট ।
Leave a comment