ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী বোমা হামলার ঘটনাটি আরও উচ্চপর্যায়ে তদন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার মার্কিন সামরিক বাহিনী এ তথ্য জানিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে হামলার সঙ্গে মার্কিন বাহিনীর সম্পৃক্ততার সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখার ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনে ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৬৮ জন শিশুশিক্ষার্থী প্রাণ হারায় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এই হামলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী জড়িত ছিল, তবে তা হবে মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দশক ধরে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের মধ্যে বেসামরিক প্রাণহানির অন্যতম ভয়াবহ ঘটনা।
ঘটনার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। তবে তিনি জানিয়েছেন, হামলার বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা সামরিক কমান্ড সেন্টকমের বাইরে অন্য কমান্ডে কর্মরত কর্মকর্তাদের দিয়ে এই তদন্ত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর তিনজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন, সেটি মূলত একটি প্রশাসনিক তদন্ত প্রক্রিয়া, যাকে ‘১৫-৬ তদন্ত’ বলা হয়। এই ধরনের তদন্ত সাধারণত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দায় নির্ধারণের জন্য পরিচালিত হয়।
কর্মকর্তারা আরও জানান, তদন্তে যদি কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায় প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ইতোমধ্যে ঘটনাটিকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। অনেক পর্যবেক্ষক মনে করছেন, তদন্তের ফলাফল মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির ওপরও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
Leave a comment