রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে আহ্বায়কসহ পূর্ণাঙ্গ উপজেলা কমিটির ৮৭ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। স্থানীয় একটি সভায় তারা এই সিদ্ধান্ত নেন এবং পরে তাদের পদত্যাগপত্র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সোমবার (৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত এক বিশেষ সভায় জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমার নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য সংগঠনের সব পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এর আগে গত সপ্তাহে রাঙামাটি জেলার যুগ্ম সদস্যসচিব উজ্জ্বল চাকমাও দল থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তার পাঁচ দিনের মাথায় এবার উপজেলা পর্যায়ের এই গণপদত্যাগ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পদত্যাগী নেতাদের দাবি, তারা জুলাই আন্দোলনের চেতনা ধারণ করে এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের প্রত্যাশা নিয়ে এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তাদের মতে, নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দলটির সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বড় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তে তারা হতাশ হয়েছেন।
পদত্যাগী নেতাদের অভিযোগ, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এনসিপি তার ঘোষিত আদর্শ ও স্বকীয়তা থেকে সরে এসেছে। ফলে দলের বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাদের রাজনৈতিক অবস্থান আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তারা।
জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার জন্য ৮৭ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়।
কিন্তু সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষের কারণে ওই কমিটির সব সদস্য সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমরা সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সবাই মিলে পদত্যাগ করেছি।”
জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে ধারণ করে কাজ করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।”
তার মতে, রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থানের সঙ্গে আপস না করার সিদ্ধান্ত থেকেই তারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এ বিষয়ে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর মাধ্যমে অবগত হয়েছেন। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়, সেই কমিটির কাছেই লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। তারা নিয়ম মেনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নই।”
তার মতে, বিষয়টি যাচাই করে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
Leave a comment