Home Uncategorized আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, ভাতা পাবেন ৩৭,৫৬৭ জন
Uncategorized

আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী, ভাতা পাবেন ৩৭,৫৬৭ জন

Share
আজ ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী
Share

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নারী প্রধান দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি বিশেষ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীতে টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। সেখানে কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে পাইলট প্রকল্প হিসেবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সীমিত পরিসরে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটি সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং গৃহস্থালি সামগ্রীর তথ্য সংগ্রহ করে। এছাড়া টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং বিদেশ থেকে আসা রেমিট্যান্সসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচকও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

সংগৃহীত তথ্য ইউনিয়ন কমিটি যাচাই-বাছাই করার পর উপজেলা পর্যায়ে পুনরায় পরীক্ষা করে উপকারভোগীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

পাইলট পর্যায়ে সারা দেশে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারী প্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সফটওয়্যারভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারের দারিদ্র্য সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই পদ্ধতিতে পরিবারগুলোকে পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে—হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং উচ্চবিত্ত। হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণির মোট ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই করা হলে এর মধ্যে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া যায়।

পরে একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশনসহ বিভিন্ন কারণ বিবেচনায় চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারী প্রধান পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, উপকারভোগী নির্বাচন পুরোপুরি সফটওয়্যারভিত্তিক ‘প্রক্সি মিনস টেস্ট’ বা দারিদ্র্য সূচকের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।এই প্রক্রিয়ায় মানবীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ কম থাকায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা অনিয়মের সম্ভাবনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত নারী প্রধান পরিবারগুলোকে একটি করে আধুনিক ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে। কার্ডটিতে স্পর্শবিহীন চিপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং এতে কিউআর কোড ও নিয়ার ফিল্ড কমিউনিকেশন (এনএফসি) সুবিধা থাকবে।ফলে এটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্যের জন্য একটি ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। তবে যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্য সংখ্যা পাঁচের বেশি হলে প্রয়োজন অনুযায়ী একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

পাইলট পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিটি পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই সহায়তার পাশাপাশি সমমূল্যের খাদ্যপণ্য দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

তবে কোনো পরিবারের সদস্য যদি সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন কিংবা বেতন, অনুদান বা পেনশন পান, তাহলে সেই পরিবার এই ভাতার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবে না।

এছাড়া নারী পরিবারপ্রধান যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকেন, বা পরিবারের নামে বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক লাইসেন্স, বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন গাড়ি বা এসি) কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকে, তাহলে সেই পরিবারও ভাতা পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতা সরাসরি জি-টু-পি (Government to Person) পদ্ধতিতে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো হবে।

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাতা সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তথ্য সংগ্রহের সময়ই সংশ্লিষ্টদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।এর ফলে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই ঘরে বসেই উপকারভোগীরা সরকারি সহায়তা পাবেন।

পাইলট প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোট ৩৮ দশমিক ০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ দশমিক ১৫ কোটি টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে। বাকি ১২ দশমিক ৯২ কোটি টাকা তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম তৈরি এবং কার্ড প্রস্তুতসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন ২০২৬’ ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
সরকারের আশা, এই কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র নারী প্রধান পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

জুলাই অভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা: সংসদের প্রথম অধিবেশনে আমন্ত্রিত সেই রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ

  ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের এক অবিস্মরণীয় ও হৃদয়বিদারক দৃশ্যের সাক্ষী রিকশাচালক নূর মোহাম্মদ। গুলিবিদ্ধ কিশোর গোলাম নাফিজকে রিকশায় করে হাসপাতালের পথে নিয়ে...

গুলশানে পথচারীকে মারধরের অভিযোগ: মডেল মনিকা কবিরকে লিগ্যাল নোটিশ

  ঢাকার গুলশান এলাকায় এক পথচারীকে মারধরের অভিযোগে আলোচনায় আসা রুশ-বাংলা মডেল মনিকা কবিরকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বুধবার (১১...

Related Articles

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রাইজমানি ঘোষণা, চ্যাম্পিয়ন ভারত পেল সর্বোচ্চ অর্থ

বহুল আলোচিত ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি বণ্টনের ঘোষণা দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল...

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছে নেতানিয়াহুর ভাই , স্কট রিটারের দাবি

ইরানের সাম্প্রতিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ছোট ভাই ইদ্দো...

গাড়িতে তেল কম দেওয়ায় পাম্প কর্মচারীকে পিস্তল উঁচিয়ে হুমকি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেট এলাকায় একটি ফুয়েল পাম্পে অতিরিক্ত জ্বালানি না দেওয়ায় উত্তেজনাকর...

মার্কিন ঘাঁটি রক্ষায় জর্ডানে ড্রোন বিশেষজ্ঞ পাঠালো ইউক্রেন

মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথে ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় ইউক্রেন জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রক্ষায়...