ইরানের ইস্ফাহান প্রদেশের দোরচেহ শহরের একটি ফল ও শাকসবজির বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাইলট ও সহ-পাইলট রয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দোরচেহ শহরটি রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ৩৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি একটি প্রশিক্ষণ ফ্লাইটে ছিল। আকাশে কিছু সময় ওড়ার পর সেটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাজার এলাকায় আছড়ে পড়ে।
ঘটনাস্থলেই পাইলট ও সহ-পাইলট নিহত হন। এছাড়া বাজারে উপস্থিত আরও দুজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে।
ইস্ফাহান প্রদেশ ইরানের সামরিক ও কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এখানে দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটি এবং পরমাণু প্রকল্প–সম্পর্কিত স্থাপনা রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাটি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা–সংক্রান্ত মহলে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
এই দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগে ইরানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হামেদান–এ একটি এ-৪ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই ঘটনায় বিমানটির চালক নিহত হন। টানা দুই সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় দেশটির বিমান নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে বলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, যান্ত্রিক সমস্যা অথবা অন্য কোনো কারণ—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
দোরচেহর বাজারে সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের পরিচয় ও ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে দেশটি। পরপর সামরিক বিমান দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষা খাতে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
Leave a comment