ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজ শহরে জ্যোতিষ পিঠের ধর্মগুরু স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী ও তার শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে ২০ জন নাবালককে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় আদালত তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য স্টেটসম্যান প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রয়াগরাজের অতিরিক্ত জেলা বিচারক বিনোদ কুমার চৌরাসিয়া দুই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। আদালত পুলিশকে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারী গত ৮ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ধর্ষণ ও পোকসো আদালতে মামলা দায়ের করেন। তার অভিযোগ, আশ্রমে একাধিক নাবালককে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। তিনি আদালতে দুই নাবালককে হাজির করেন এবং একটি সিডি প্রমাণ হিসেবে জমা দেন।
স্থানীয় থানায় মামলা নথিভুক্ত না হওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালত ভুক্তভোগী নাবালকদের বক্তব্য রেকর্ড করার পর রায় সংরক্ষণ করে এবং পরে এফআইআর দায়েরের নির্দেশ দেয়।
স্বামী অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ পাবে।
তিনি বলেন, মামলা রুজু হওয়া সঠিক, কারণ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ‘সত্য’ উদ্ঘাটিত হবে। দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অভিযুক্ত ধর্মগুরু আরও দাবি করেন, ‘গো মাতা’ ইস্যুতে তার সরব অবস্থানের কারণে তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্তাধীন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পুলিশ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান করবে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ভারতে শিশু সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলাগুলো সাধারণত পোকসো আইনের আওতায় পরিচালিত হয়, যেখানে নাবালকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ আদালত ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়।
আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তে নিরপেক্ষতা ও প্রমাণভিত্তিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগ প্রমাণিত বলে গণ্য হয় না—এ বিষয়টি আদালতও গুরুত্ব দিয়ে দেখে।
ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি ও আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।
Leave a comment