আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটের দিন কারচুপি বা বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি সতর্ক করে বলেন, নির্বাচনের দিন কেউ ভোটের বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তার ভাষায়, ভোটের দিন কোনো ধরনের অরাজকতা সহ্য করা হবে না।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী মানুষের মধ্যে বিভাজন নয়, ঐক্য দেখতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, জাতিগত, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভেদ নয়—সবার একটি পরিচয় ‘আমরাই বাংলাদেশ’—এই চেতনায় দেশ গড়ার কথা বলেন তিনি। তার মতে, বৈষম্যহীন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই তাদের রাজনৈতিক লক্ষ্য।
জনসভায় কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের সমালোচনা করেন। তার দাবি, একটি দল ক্ষমতায় গেলে দুর্নীতি দমন করবে বলে প্রচার করছে, কিন্তু তাদের বহু সংসদ সদস্য প্রার্থী গুরুতর ঋণখেলাপি। তিনি প্রশ্ন তোলেন—ঋণখেলাপিরা কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বে? এই প্রসঙ্গে তিনি নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার ওপর জোর দেন।
জনগণের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে জামায়াত আমির দলকে একটি সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে তারা নিজেরা দুর্নীতিতে জড়াবেন না এবং দুর্নীতি সহ্যও করবেন না। তার ভাষায়, দল রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায় জনগণের সেবা করার জন্য, ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে নয়।
তিনি অতীতের একটি বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দেশের মানুষ একজন ‘জালিম’কে বিদায় দিয়ে আরেকজনের হাতে দেশ তুলে দিতে চায় না। এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ও বিকল্প নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ নিয়েও তিনি কড়া সমালোচনা করেন। তার অভিযোগ, বাংলাদেশ যখন নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে, তখন কিছু দেশ প্রকাশ্যে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশি হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার কথা বলেন, কিন্তু কোনো ধরনের আধিপত্য মেনে না নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
জুলাই অভ্যুত্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কৃতিত্ব নয়; বরং সমগ্র জনগণের অংশগ্রহণের ফল। এককভাবে কাউকে ‘মাস্টারমাইন্ড’ বলা হলে শহীদদের অবদান খাটো করা হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে একই দিন সকালে যাত্রাবাড়ীতে আরেক জনসভায় ডা. শফিকুর রহমান তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, যুবক-যুবতীদের বেকার ভাতা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে হবে এবং কারিগরি দক্ষতায় গড়ে তুলতে হবে।
নগর সমস্যার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জলাবদ্ধতা ইস্যুতেও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ক্ষমতায় এসে এ সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট মেয়র ও কাউন্সিলরদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে—এমনকি তিনি এ বিষয়ে রূপকধর্মী কঠোর মন্তব্যও করেন, যা জনসভায় উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে সাড়া ফেলে।
Leave a comment