বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার ও বর্তমানে রাজ্যসভার সদস্য হর্ষবর্ধন শ্রিংলা। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দার্জিলিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্নের জবাবে শ্রিংলা বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইসলামপন্থী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতের ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা কম। তার ভাষ্য, “অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা ক্ষমতায় আসতে পারবে না।” তবে তিনি যোগ করেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হলে বা কারচুপির অভিযোগ উঠলে ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
জামায়াতে ইসলামীর ভোটভিত্তি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শ্রিংলা দাবি করেন, দলটির ভোটের হার সীমিত এবং তা অনেক ক্ষেত্রে অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেন, “তাদের ভোট পাঁচ থেকে সাত শতাংশের মধ্যে, সেটাও অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সহায়তায়।”
বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রশাসন নিয়েও মন্তব্য করেন ভারতের এই সাবেক কূটনীতিক। তার মতে, যারা অন্তর্বর্তী প্রশাসন পরিচালনা করছেন, তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি নন। তিনি বলেন, “এই প্রশাসন এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।” একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ভারত সরকার বরাবরই সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গ ছাড়াও সীমান্ত ও অভিবাসন ইস্যু নিয়েও বক্তব্য দেন শ্রিংলা। তার দাবি, বাংলাদেশ থেকে লোকজন ভারতে আসছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থে তাদের থাকতে দেওয়া হচ্ছে—যা একটি উদ্বেগের বিষয়। তিনি বলেন, এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে দায়িত্বশীল নীতি গ্রহণ জরুরি।
ক্রীড়াঙ্গন সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের টি–২০ বিশ্বকাপ বর্জনের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। শ্রিংলার মতে, কোনো বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্রীড়ার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের অনেক ক্রীড়াবিদ ও ক্রীড়া-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের অনেকে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখেন না।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি অনির্বাচিত প্রশাসনের নেওয়া ক্রীড়া-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেটের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গনে অংশগ্রহণ শুধু ক্রীড়া নয়, কূটনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দার্জিলিংয়ে দেওয়া এসব মন্তব্য দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একজন সাবেক কূটনীতিকের এমন খোলামেলা বক্তব্য স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
Leave a comment