নরসিংদী শহরের পুলিশ লাইন এলাকায় গভীর রাতে একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে আগুন লাগার ঘটনায় ঘুমন্ত অবস্থায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত যুবকের নাম চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। তিনি নরসিংদী শহরের পুলিশ লাইন্স এলাকার খানাবাড়ি মসজিদ মার্কেটের একটি গাড়ির ওয়ার্কশপে কাজ করতেন এবং প্রায়ই রাতে সেখানেই অবস্থান করতেন বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে কাজ শেষ করে চঞ্চল দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে অজ্ঞাত কয়েকজন ব্যক্তি দোকানের সামনের শাটারের নিচের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওয়ার্কশপের ভেতরে পেট্রোল ও মবিলসহ দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ভেতরে থাকা চঞ্চল বের হওয়ার সুযোগ পাননি এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটিকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দাবি করছেন, এটি পূর্বপরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তাদের ভাষ্য, সিসিটিভি ফুটেজে কয়েকজন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শাটারের সামনে অবস্থান করতে এবং আগুন দেওয়ার মতো তৎপরতা চালাতে দেখা গেছে। যদিও ফুটেজের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ এখনো শেষ হয়নি, তবুও প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি সন্দেহজনক বলে মনে করছেন অনেকে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভেতর থেকে চঞ্চলের মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও, এটি দুর্ঘটনা না নাশকতা—তা নিশ্চিত করতে ফরেনসিক প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে গিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে।”
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন এবং সংশ্লিষ্টদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে।
Leave a comment