কক্সবাজার পৌরসভার বিজিবি ক্যাম্প পশ্চিম পাড়ায় রহিদ বড়ুয়া নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সকালে বাড়ির অদূরে একটি গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রহিদ বড়ুয়া ওই এলাকার বাসিন্দা কালু বড়ুয়ার ছেলে। তিনি চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় একটি দোকানে চাকরি করতেন বলে পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কয়েকদিন আগে তিনি কর্মস্থল থেকে বাড়িতে ফিরেছিলেন।
নিহতের বাবা কালু বড়ুয়া জানান, শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে রহিদ বাড়ির সামনে অবস্থান করছিলেন। ওই সময় দুটি অটোরিকশায় করে কয়েকজন ব্যক্তি এসে তাকে ডেকে নিয়ে যান। তাদের পরিচয় বা উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার পর থেকেই রহিদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, “আমার ছেলে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠাৎ কয়েকজন লোক অটোরিকশায় এসে তাকে ডেকে নেয়। এরপর থেকেই তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা যায়নি। আমরা সারারাত খোঁজাখুঁজি করেছি।”
পরদিন সোমবার ভোরে পার্শ্ববর্তী এক আত্মীয়ের বাড়ির তেতুলিয়া গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় রহিদের মরদেহ দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী সেখানে ভিড় জমান এবং পুলিশকে অবহিত করেন। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কালু বড়ুয়া দাবি করেন, ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে প্রায় তিন মাস আগে স্থানীয় ছোটন নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে রহিদের বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই ঘটনার জেরে বিষয়টি তখন স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হয় এবং মুচলেকা দিয়ে রহিদ চট্টগ্রামে চলে যান।
তিনি বলেন, “বিরোধের পর আমার ছেলেকে চাপের মুখে চট্টগ্রামে চলে যেতে হয়েছিল। সম্প্রতি সে বাড়িতে ফিরে আসে। আমরা ধারণা করছি, পুরোনো বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।”
কালু বড়ুয়ার আরও বলেন, “মরদেহের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটা কোনোভাবেই আত্মহত্যা হতে পারে না।” পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দীন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ওসি বলেন, “এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—এ বিষয়ে এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।” তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং পারিপার্শ্বিক সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment