কুষ্টিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল হাসেম (৫৫)–এর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে শহরের ব্যস্ত এলাকা সিঙ্গার মোড়ে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় রাজনীতিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্র জানায়, কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমীর হামজার সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন আবুল হাসেম। বিকেল আনুমানিক ৪টা ১৫ মিনিটে বক্তব্য চলাকালীন হঠাৎ তিনি অসুস্থ বোধ করেন এবং কথা থামিয়ে দেন। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি ঢলে পড়েন।
এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে শহরের মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি স্ট্রোক (স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোক)–করেন। তবে ময়নাতদন্ত বা চিকিৎসা পরীক্ষার বিস্তারিত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
নিহত আবুল হাসেমের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার দারুস সালামপাড়া এলাকায়। পেশাগত জীবনে তিনি পোড়াদহ কলেজে ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি দীর্ঘদিন ধরে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং জেলার গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে জেলা জামায়াতের রুকন সদস্য আলী আহসান মুজাহিদ বলেন,“কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমির হামজাকে কেন্দ্র করে একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে বলে আমাদের অভিযোগ রয়েছে। এর প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুষ্টিয়া পৌরসভা এলাকা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহর প্রদক্ষিণ শেষে সিঙ্গার মোড়ে সমাবেশে রূপ নেয়। সেখানে বক্তব্য শুরু করেন জেলা আমির আবুল হাসেম। কয়েক মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর হঠাৎ তিনি থেমে যান এবং পড়ে যান। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি।” জেলা জামায়াত আমিরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সমাবেশস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
জেলা জামায়াতের যুব বিভাগের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান পলাশ বলেন,“আবুল হাসেম একজন সৎ ও ভদ্র মানুষ ছিলেন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকলেও সবার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ছিল। জামায়াত আজ একজন অভিভাবককে হারালো। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন মৃত্যু আমাদের জন্য বড় ধাক্কা।”
উল্লেখ্য, কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আমির হামজাকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে করা এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আমির হামজার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে।
এসব ঘটনার প্রতিবাদে জেলা জামায়াত ও তার সমর্থকরা একাধিক কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। এ বিষয়ে আমির হামজার বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও হয়েছে বলে জানা গেছে।
Leave a comment