Home জাতীয় অপরাধ সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামিরা–ডনসহ ১১ আসামির সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন
অপরাধআইন-বিচারজাতীয়বিনোদন

সালমান শাহ হত্যা মামলা: সামিরা–ডনসহ ১১ আসামির সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন

Share
Share

বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মামলার বাদীপক্ষ সামিরা, ডনসহ ১১ জন আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করেছে। একই দিনে মামলার চার্জশিট দাখিলের কথা থাকলেও তদন্ত সংস্থা সিআইডি তা জমা দিতে ব্যর্থ হয়েছে, যা নিয়ে বাদীপক্ষ ও সালমান শাহের ভক্তদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মামলার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে জানা যায়, আসামিদের সম্পত্তি ক্রোকের এই আবেদন করা হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়াকে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক রাখতে। বাদীপক্ষের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে বা সম্পদ স্থানান্তরের মাধ্যমে বেঁচে যেতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই সম্পত্তি জব্দের পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

আজই সিআইডির পক্ষ থেকে চার্জশিট দাখিলের কথা থাকলেও তা না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ বেড়েছে। আইনজীবীদের মতে, তদন্তের গতি ও স্বচ্ছতা নিয়ে এর ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বাদীপক্ষ বলছে, ২৯ বছর পর মামলা হত্যা হিসেবে পুনর্গঠিত হলেও বাস্তবে ন্যায়বিচারের পথ এখনও অনিশ্চিত।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় মানববন্ধন করেন সালমান শাহের ভক্তরা। তারা দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার, আগাম জামিন বন্ধ এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভক্তদের কণ্ঠে ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার বেদনা ও ক্ষোভ। অনেকেই বলেন, “প্রিয় নায়কের মৃত্যুর ২৯ বছর পরও যদি ন্যায়বিচার না মেলে, তবে আমাদের বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থা কীভাবে থাকবে?”

সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনাটি দীর্ঘদিন ধরে অপমৃত্যু হিসেবে তদন্তাধীন ছিল। তবে গত বছর ২০ অক্টোবর আদালত সেই মামলাকে হত্যা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেন। একই দিন তার মামা আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় ১১ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বিতর্কিত মামলাটি নতুন মাত্রা পায়। সালমান শাহের পরিবার ও ভক্তরা আশা করেছিলেন, এবার হয়তো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা যাবে।

বাদীপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন কেবল প্রতীকী নয়, বরং এটি আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে আসামিদের আর্থিক ও প্রভাবশালী অবস্থানকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের সুযোগ কমে আসবে।

তাদের মতে, অতীতে মামলাটি যেভাবে বছরের পর বছর ঝুলে ছিল, তাতে প্রমাণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি যেমন ছিল, তেমনি আসামিদের পালিয়ে যাওয়া বা সম্পদ সরিয়ে ফেলার আশঙ্কাও ছিল। তাই এখন কঠোর আইনি পদক্ষেপ ছাড়া ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা কঠিন।

Share

Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Don't Miss

নোবেল না দেওয়াটা নরওয়ের ‘বোকামি’: ট্রাম্প

নিজেকে একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবিদার হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না দেওয়া নরওয়ের একটি...

তুরস্কে ১২২ জন কোরআনের হাফেজকে রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সংবর্ধনা

তুরস্কের বুরদুর প্রদেশে পবিত্র কোরআনের ১২২ জন হাফেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুরদুর প্রাদেশিক মুফতি কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হিফজ কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করার...

Related Articles

উদারতা দেখিয়ে এক বাংলাদেশি মক্কাবাসীর মন জয় করলেন

পবিত্র মক্কার মসজিদুল হারামে এক বাংলাদেশি পরিচ্ছন্নতা কর্মীর নিঃস্বার্থ মানবিক আচরণ সামাজিক...

শেখ হাসিনা ও কামালের ফাঁসির পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান দমনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা...

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান পেলেন ব্যক্তিগত গানম্যান

দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতাদের জন্য নিরাপত্তা জোরদারের ধারাবাহিকতায় এবার জামায়াতে...

সেনাপ্রধানের হস্তক্ষেপ চাইলেন মির্জা ফখরুল

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান ডাবলুর মৃত্যুর ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে...