বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও)। এ নির্দেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মুম্বাই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন আমির খানের ভাগনে এই অভিনেতা।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার কথা রয়েছে ইমরানের। এরপর জরুরি শুনানির আবেদন জানানো হবে। তাঁর পক্ষে মামলা লড়বেন এমজেডএম লিগ্যাল এলএলপির আইনজীবী জুলফিকার মেমন, পারভেজ মেমন ও চিরাগ নায়েক। আবেদনটি মুম্বাই হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি মহেশ চন্দ্র ত্রিপাঠি ও বিচারপতি অদ্বৈত শেঠনার ডিভিশন বেঞ্চে শুনানির জন্য উঠতে পারে।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নেন ইমরান। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এ বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ প্রক্রিয়ায় দেশজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিক্ষোভের পর ইমরানকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেত্রী ও তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং কাজিন জেইন মেরি।
ঘটনার পর বিজেপি নেতা কিরিট সোমাইয়া মুম্বাইয়ের গামদেবী থানায় ইমরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ইমরান রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নিয়ে ফরেনার্স অ্যাক্ট লঙ্ঘন করেছেন।
পরে পুলিশ অভিযোগটি এফআরআরওতে পাঠায়। এর ভিত্তিতেই ইমরানকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারতের ওসিআই কার্ডধারীরা দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের সুযোগ পেলেও তাঁরা ভারতীয় নাগরিক নন। ফলে ভোট দেওয়া বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার মতো রাজনৈতিক অধিকার তাঁদের নেই।
ভারতের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাক্ট, ২০২৫ অনুযায়ী, কোনো বিদেশিকে ভারত বা দেশটির নির্দিষ্ট কোনো এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের রয়েছে। ইমরানের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রশাসনিক পদক্ষেপের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন এই অভিনেতা।
Leave a comment