মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ২২০ জন মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির খাতামুল আম্বিয়া (সা.) কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের এক মুখপাত্র এ তথ্য জানিয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ওয়েবসাইট পার্স টুডেতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ দাবি তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটির ওপর ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে।
ইরানের ওই সামরিক মুখপাত্র দাবি করেন, সাম্প্রতিক অভিযানে মার্কিন বাহিনীর বহু সৈন্য ও কমান্ডার হতাহত হয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামো ও সরঞ্জামেরও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, পারস্য উপসাগর এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট লক্ষ্য করে চালানো হামলায় অন্তত ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের আল ডাফরা এয়ার বেস লক্ষ্য করে চালানো আরেকটি হামলায় প্রায় ২০০ জনের মতো মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাগুলো স্বাধীনভাবে যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।
ইরানের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, পারস্য উপসাগরের উত্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই হামলাগুলো বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ, যার লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দুর্বল করা। এদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও মন্তব্য করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একজন কর্মকর্তা।
দেশটির আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইহিনী বলেন, বর্তমান যুদ্ধ ইরান ছয় মাস পর্যন্ত চালিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা রাখে।
তিনি আরও বলেন, দেশের সামরিক বাহিনী দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক উভয় ধরনের অভিযান চালাতে পারবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের দাবি ও পাল্টা দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বাড়ছে। সম্ভাব্য বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা প্রকাশ করে বিভিন্ন দেশ কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।
Leave a comment