গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেসব জাহাজ চলাচল করবে, সেগুলোকে আগাম টোল পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। এ টোল ক্রিপ্টোকারেন্সি অথবা চীনের মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা পর্যন্ত এভাবে টোল আদায় করা হবে।
অন্যদিকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য জাহাজগুলোকে ১ ডলার করে টোল দিতে হবে বলে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-কে জানিয়েছেন ইরানের এক বাণিজ্য প্রতিনিধি। খালি জাহাজের ক্ষেত্রে কোনো ফি প্রযোজ্য হবে না।
প্রতি ব্যারেলে ১ ডলার হারে টোল আরোপের ফলে বড় সুপার ট্যাংকারগুলোর হরমুজ প্রণালি অতিক্রমে ব্যয় দাঁড়াতে পারে কয়েক মিলিয়ন ডলার।
এক ব্যারেলে ১৫৯ লিটার তেল থাকে। সে হিসাবে প্রতি লিটার তেলে প্রায় ০.০০৬৩ ডলার, অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৫–৮০ পয়সা সমপরিমাণ টোল আরোপ করা হবে।
বর্তমান আনুমানিক বিনিময় হার অনুযায়ী (১ ডলার ≈ ৭–৭.৩ চীনা ইউয়ান), প্রতি ব্যারেলে টোল দাঁড়ায় প্রায় ৭–৭.৫ ইউয়ান।
ইরানের শর্তগুলো
- হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের আগে জাহাজ কোম্পানিগুলোকে ইমেইলের মাধ্যমে আগাম নোটিশ দিতে হবে।
- জাহাজ-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
- অনুমোদন দেবে কেবল ইরানি কর্তৃপক্ষ।
- টোল আগাম পরিশোধ করতে হবে; পরিশোধযোগ্য মুদ্রা বিটকয়েন বা ইউয়ান।
- জাহাজগুলোকে ইরানের উপকূলঘেঁষা পথ—কাশেম ও লারেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকা—ব্যবহার করতে হবে।
- বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজ সহজে চলাচল করতে পারবে; শত্রুভাবাপন্ন দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি হতে পারে।
কেন ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ইউয়ানে টোল?
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞার কারণে ডলারে লেনদেন ইরানের জন্য জটিল। এ কারণে বিকল্প হিসেবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারে লেনদেন শনাক্ত করা কঠিন হয়। পাশাপাশি ইউয়ানে লেনদেন করলে পশ্চিমা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা কমে।
আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইউয়ানে টোল আদায় ইতোমধ্যে শুরু করেছে ইরান। এতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, এ ব্যবস্থার ফলে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্য পশ্চিমা আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে সরে যেতে পারে।
সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস
Leave a comment