শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল থেকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে দর্শনার্থীরা শ্রদ্ধা জানাতে প্রবেশ করছেন। এদিন ভোর থেকেই সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সমাধিস্থলে এসে দোয়া ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সকালের প্রথম প্রহর থেকেই জিয়া উদ্যানে মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। অনেকেই ফুল নিয়ে সমাধিস্থলে যান, কেউ কেউ নীরবে দাঁড়িয়ে দোয়া পাঠ করেন। তবে উদ্যানের মূল অংশে চলমান সংস্কারকাজের কারণে কিছু অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীদের একটি অংশ বিজয় স্মরণি মোড়ের প্রবেশমুখে ব্যারিকেডের পেছনে অপেক্ষা করেন। সরাসরি সমাধিস্থলে পৌঁছাতে না পারলেও অনেকে সেখানেই দাঁড়িয়ে খালেদা জিয়া ও জিয়াউর রহমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন।
দর্শনার্থীদের ভিড় ও সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় পুরো এলাকাজুড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবেশপথে তল্লাশি জোরদার করা হয় এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশকে সক্রিয় থাকতে দেখা গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, দর্শনার্থীরা যাতে সুশৃঙ্খলভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারেন, সে জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজায় ইমামতি করেন। জানাজায় রাজনৈতিক নেতা, কূটনীতিক, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মুসল্লি অংশ নেন। জানাজা শেষে বিকেল পৌনে ৫টার দিকে খালেদা জিয়ার মরদেহ শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে নেওয়া হয়।
সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়। দাফন অনুষ্ঠানে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় সামরিক বাহিনী, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বেগম খালেদা জিয়া মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। পারিবারিক ও
চিকিৎসা সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ নভেম্বর শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। একই সঙ্গে কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ দীর্ঘদিনের বিভিন্ন জটিলতা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তোলে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয় এবং সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার খবরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই বলছেন, দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা এই দুই নেতার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা জানানো তাদের জন্য আবেগঘন এক মুহূর্ত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের সমাধিস্থল ঘিরে মানুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক আনুগত্যের প্রকাশ নয়, বরং ইতিহাস ও স্মৃতির প্রতিও শ্রদ্ধার বহিঃপ্রকাশ।
Leave a comment