ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব ডা. আলী লারিজানির আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। বুধবার (১৮ মার্চ) ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির কাছে পাঠানো এক বিশেষ বার্তায় পুতিন লারিজানিকে রাশিয়ার এক ‘প্রকৃত বন্ধু’ হিসেবে বর্ণনা করেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি এবং রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ‘তাস’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মোজতবা খামেনিকে পাঠানো বার্তায় পুতিন উল্লেখ করেন, মস্কো ও তেহরানের মধ্যে বর্তমান যে বিস্তৃত কৌশলগত অংশীদারিত্ব বিদ্যমান, তা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আলী লারিজানির অবদান অনবদ্য। পুতিন বলেন, “তিনি রাশিয়ার মানুষের হৃদয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।” শোকবার্তায় লারিজানির পরিবার এবং শোকসন্তপ্ত বন্ধুদের প্রতিও গভীর সহমর্মিতা প্রকাশ করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
এদিকে মস্কোতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি একে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ওপর চরম আঘাত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “রাশিয়া একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের নেতৃত্বকে হত্যার এই ধরণের পদক্ষেপের কঠোর বিরোধিতা করে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
গত সোমবার রাতে তেহরানের সন্নিকটে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর এক ‘নির্ভুল বিমান হামলায়’ আলী লারিজানি নিহত হন। মঙ্গলবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে। উল্লেখ্য, ওই হামলায় লারিজানির পুত্র, তাঁর প্রধান সহকারী রেজা বায়াত এবং বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ সফরসঙ্গীও প্রাণ হারান। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এই সফল অপারেশনের দাবি করলেও তেহরান একে ‘কাপুরুষোচিত আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লারিজানির মৃত্যু ইরান-রাশিয়া সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কে একটি বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করবে। তিনি ছিলেন দুই দেশের প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা যোগাযোগের অন্যতম প্রধান সেতুবন্ধন। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে লারিজানির অনুপস্থিতি তেহরান-মস্কো অক্ষের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Leave a comment