মার্কিন টিভি চ্যানেল টিএলসি (TLC)-এর জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘৯০ ডে ফিয়ান্সে: দ্য আদার ওয়ে’-এর একটি বিতর্কিত দৃশ্য ২০২৬ সালে পুনরায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওটিতে ভারতের জয়পুরে এক রক্ষণশীল পরিবারের ধর্মীয় আচারের নামে রান্নাঘরে গোবর ও গোমূত্র ব্যবহারের চিত্র উঠে এসেছে, যা শেষ পর্যন্ত একটি আন্তর্জাতিক বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ভিডিওটিতে দেখা যায়, ইতালীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক কিম্বার্লি তার ভারতীয় স্বামী টিজের বাড়িতে পৌঁছানোর পর এক চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হন। টিজের মা রান্নাঘর ‘পবিত্র’ করার উদ্দেশ্যে একটি মাটির পাত্রে শুকনো গোবর জ্বালিয়ে তার ধোঁয়া পুরো ঘরে ছড়িয়ে দিচ্ছিলেন। কিম্বার্লির ক্ষোভ ও বিস্ময় আরও বেড়ে যায় যখন তিনি দেখেন, গোবর রাখা টেবিল যে কাপড় দিয়ে মোছা হয়েছে, সেই একই কাপড় দিয়ে রান্নার সরঞ্জাম পরিষ্কার করা হচ্ছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটে যখন টিজের ভাই ইয়াশ দাবি করেন যে গোমূত্রে জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে এবং কিম্বার্লির সামনেই তা ছিটিয়ে দেন।
কিম্বার্লি এই প্রথাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে জানান যে, পশুর বর্জ্য রান্নাঘরে ব্যবহার করা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে, টিজে স্বীকার করেন যে কিম্বার্লিকে হারানোর ভয়ে তিনি বিয়ের আগে তাদের পরিবারের এই কঠোর রক্ষণশীল রীতিনীতিগুলো গোপন রেখেছিলেন। এই বিশাল সাংস্কৃতিক ও ব্যক্তিগত আদর্শের সংঘাত শেষ পর্যন্ত তাদের বিবাহবিচ্ছেদে রূপ নেয় এবং কিম্বার্লি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান এই বিষয়ে কিম্বার্লির আশঙ্কাকেই সমর্থন করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুর বর্জ্যে ই-কোলাই বা সালমোনেলার মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। এছাড়া গোবর পোড়ানোর ধোঁয়া ফুসফুসের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে।
২০২৬ সালে ভিডিওটি পুনরায় ছড়িয়ে পড়ার পর রেডিট ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক মার্কিন দর্শক কিম্বার্লির অবস্থানকে যৌক্তিক বলে সমর্থন দিয়েছেন। অন্যদিকে, ভারতের শিক্ষিত সমাজ ও সচেতন নাগরিকরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে বলছেন, এই ধরনের প্রথা আধুনিক ও প্রগতিশীল ভারতের প্রকৃত চিত্র নয়। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক রেটিং বাড়ানোর উদ্দেশ্যে রিয়েলিটি শোর নির্মাতারা ভারতের কিছু বিচ্ছিন্ন ও পশ্চাৎপদ বিষয়কে অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরেছেন।
Leave a comment