রাজধানীর মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের একজন সিএনজি চালক এবং অপরজন মোটরসাইকেল আরোহী।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোরের দিকে মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফ্লাইওভারের ওপর বিপরীত দিক থেকে আসা সিএনজি ও মোটরসাইকেলটির মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় উভয় যানবাহনই দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই আরোহী গুরুতর আহত হন।
নিহতরা হলেন মো. নয়ন তালুকদার (৭০) ও মো. ইয়াসিন আরাফাত (২১)। নয়ন তালুকদার পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন। তিনি যাত্রাবাড়ীর ধলপুর এলাকার বাসিন্দা। অপরদিকে, নিহত মোটরসাইকেল আরোহী ইয়াসিন আরাফাত দক্ষিণ মুগদার ১৪১ নম্বর এলাকার বাসিন্দা এবং তিনি বাশার জহিরুল ইসলামের ছেলে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক উভয়কেই মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষের ফলে তারা মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হন, যা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মৌচাক ফ্লাইওভারের ওপর সিএনজি ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুজন গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।” তিনি আরও জানান, নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভোরের সময় ফ্লাইওভারে যান চলাচল তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও উচ্চগতির কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। সংঘর্ষটি কীভাবে ঘটেছে এবং কোন যানটি ভুল লেনে ছিল—সে বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত ইয়াসিন আরাফাতের পরিবারের সদস্যরা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে মরদেহ শনাক্ত করেন। শোকাহত পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াসিন ভোরের দিকে মোটরসাইকেলে করে বের হয়েছিলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই দুর্ঘটনার খবর পান তারা। অন্যদিকে, সিএনজি চালক নয়ন তালুকদারের পরিবারও হাসপাতালে এসে তার মৃত্যু সংবাদ নিশ্চিত করে।
এই দুর্ঘটনার পর মৌচাক ফ্লাইওভারে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ও ট্রাফিক বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
Leave a comment