রংপুর সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে টাকা ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না—এমন অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা। দলিল লেখক, নকলনবীশ ও দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকের দাবি, সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহের নেতৃত্বেই এই শক্তিশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
সেবা প্রত্যাশীরা জানান, দলিল যাচাই-বাছাই, অনুলিপি সংগ্রহ, জমির মালিকানা নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন কাজে পরিকল্পিতভাবে জটিলতা তৈরি করা হয়। এরপর অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী সাহিদ আলম জানান, জমির একটি তল্লাশি প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করতে তিনি প্রায় সাত দিন ধরে অফিসে ঘুরেছেন। পরে সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহের সঙ্গে দেখা করলে তিনি কাগজপত্রে ত্রুটি থাকার কথা বলে প্রত্যয়নপত্র দিতে অস্বীকৃতি জানান।
কিন্তু পরে অফিসের এক দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই প্রত্যয়নপত্র পাওয়া যায়। তবে সরকার নির্ধারিত ১৫০ টাকার পরিবর্তে দালালকে দিতে হয়েছে এক হাজার টাকা।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—যে কাগজপত্র আগে অসম্পূর্ণ বলে দাবি করা হয়েছিল, সেটি কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যেই অনুমোদন পেল? বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সাব-রেজিস্ট্রার সুব্রত কুমার সিংহ কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্ট দালাল দ্রুত সরে পড়েন এবং সাব-রেজিস্ট্রারও তড়িঘড়ি করে এজলাস ত্যাগ করে মোটরসাইকেলে করে অফিস ছাড়েন।
এদিকে সাব-রেজিস্ট্রার চলে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কথিত ঘুষ সিন্ডিকেটের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলিল লেখক সমিতির নেতা মুকুট এসএটিভির ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যাতে ঘটনাটির প্রমাণ নষ্ট করা যায়।
এ বিষয়ে জানতে জেলা রেজিস্ট্রারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করা হয়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এই ভূমি সেবা প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতিমুক্ত করতে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলো দালালমুক্ত করা এবং দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সেবা প্রত্যাশীরা।
Leave a comment