রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় নিহত মা ও মেয়ের ফরেনসিক পরীক্ষায় কোনো ধরনের যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, চারজনের মরদেহের গলায় আঘাতের সুনির্দিষ্ট চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে তাঁদের সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও চার মরদেহের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরেনসিক প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর (২৫) শরীরে কোনো ধরনের ‘সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’-এর চিহ্ন মেলেনি। ল্যাব টেস্টের জন্য পাঠানো নমুনার ফলাফলেও কোনো বীর্য বা ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।
ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক আরও স্পষ্ট করেন, চারটি মরদেহের বুকে ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকলেও তা মৃত্যুর জন্য মুখ্য কারণ ছিল না। গলায় আঘাত ও শ্বাসরোধই ছিল মৃত্যুর প্রধান কারণ। মরদেহগুলো মর্গে পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় পচন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল; ফলে মরদেহের খোলা অংশগুলো স্বাভাবিকভাবেই কালো হয়ে যায়, যা কোনো অ্যাসিড বা কেমিক্যালে ঝলসে যাওয়ার ঘটনা নয়। চিকিৎসকের এই বক্তব্যের মাধ্যমে মর্গ কর্মচারীর সূত্র ধরে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর গুঞ্জবের নিরসন ঘটল।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার বাসা থেকে প্রাক্তন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), স্নাতকোত্তর পড়ুয়া মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছেলে আয়ুস চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর রোববার ভোরে একই এলাকার বাসিন্দা মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত গণপতির ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর দায়ের করা হত্যা মামলায় ওই দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সংবেদনশীল এই চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্তভার কোতোয়ালি থানা থেকে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়েছে।
Leave a comment