গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ভয়াবহ যুদ্ধে ইরানে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইরানের ফরেনসিক বিভাগের প্রধানের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার বেসামরিক ও সামরিক সদস্য।
ইরানের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান জানান, নিহতদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশের পরিচয় এ পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অজ্ঞাতনামা মরদেহগুলোর ডিএনএ পরীক্ষা ও শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে যাতে সেগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা যায়।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই সুপরিকল্পিত হামলায় কেবল সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাই নয়, বরং বিদ্যুৎ কেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই যুদ্ধে ইরানের অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় পরিষেবা বন্ধ থাকায় দেশজুড়ে এক ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তার স্থায়িত্ব এখন হুমকির মুখে। গতকাল লেবাননে ইসরায়েলের নতুন করে চালানো ভয়াবহ বিমান হামলার পর ইরান এই চুক্তি বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ‘তাসনিম নিউজ এজেন্সি’ জানিয়েছে, তেহরান এই হামলাকে যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, উস্কানি অব্যাহত থাকলে ইরান কঠোর প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।
আন্তর্জাতিক মহল দ্রুত উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে আচ্ছন্ন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে এই সংঘাত আঞ্চলিক গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
Leave a comment